সবার জন্য গুলতিতে কয়েক টুকরো পাথর


যতোদিন আইনের হাত পা কাঁপবে এসব অপরাধীকে সাজা দিতে ততোদিন রাক্ষসের রক্তের মতোন এর ফোঁটাগুলো এক একটা ধর্ষক কুলাঙ্গার জন্ম দিতে থাকবে। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে কোনো একদিন ক্লীবলিঙ্গ থেকে লিঙ্গান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধারা বেগবান হতেই থাকবে, হতেই থাকবে।

দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। এমন শাস্তি দিতে হবে যেন নির্বোধের মনেও এরপর ভয় সৃষ্টি হয়। তবে এটা প্রতিকার নয়, সেটাও স্পষ্ট করে মাথায় রাখতে হবে। গোটা সমাজে যতোদিন অপরাধীর গলা উঁচু থাকার অসুস্থ রীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে, ততোদিন এ চলবেই। যতোদিন ঘরে ঘরে, স্কুলে স্কুলে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্ঞানের ও সত্যের দীক্ষা এবং উপাসনার বদলে পেশিশক্তি এবং বিত্ত প্রাধান্য পাবে ততোদিন এসব থামবে না।
যতোদিন পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং পরমতসহিষ্ণুতা নিত্যদিনের আচারে ভালোবাসায় লালনের চর্চায় আসবে না ঘরে-ঘরে, জনে-জনে, ততোদিন এসব থামবে না। যতোদিন ধর্মের নামে অন্ধকার ও ক্ষমতার নামে অনাচার চলতেই থাকবে; ততোদিন এমন জঘন্য কর্মের হার বাড়তেই থাকবে। যতোদিন অস্থিরতা উপশমে সামাজিক ক্রিয়াশীলতা সক্রিয় ও গতিশীল না হবে, ততোদিন অস্থিরতার কাঁধে চড়ে সকল অনাচার পুনঃ পুনঃ ঘটতেই থাকবে। যতোদিন আমার সন্তানের অপরাধ আমার কাছে সবচেয়ে বেশি শাস্তিতুল্য না হবে; ততোদিন এই আশকারা সকল অপকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে। হ্যাঁ, প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করেই বলছি।

আগে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া সংগঠন কিংবা ক্লাব নিয়ে মেতে থাকতো ক্রিয়াশীল তারুণ্য, কিছু তরুণ-তরুণী রাজনীতি নিয়ে। সবকিছু মিলিয়ে একটা ইতিবাচক চর্চা বিদ্যমান ছিল। আজ এসব জাদুঘরে গিয়ে ঢুকেছে প্রায়। আর তা শুধু যে কালের বিবর্তনেই ঘটে গিয়েছে তা নয়; ঘটানো হয়েছে। সময়ের বিবর্তনের চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক ফায়দাবাদীদের কারসাজি। যা তারুণ্যকে দিনেদিনে একটু একটু করে ঠেলে দিয়েছে আত্মকেন্দ্রিকতানির্ভর কাল্পনিক এক অবাস্তব মনোজগতের দিকে। এই স্বার্থান্বেষী চক্রটি আজ হয়ে উঠেছে এমনই শক্তিধর যে ওরাই সমাজ ও সমষ্টির নিয়ন্তা হয়ে উঠেছে।
আমাদের তারুণ্য তাদের সামনে দেখছে শুধুই হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্ধতা; ধর্মের নামে পীড়ন, ইয়াবা, কালো টাকা, ঝাঁ চকচকে বিত্তের ঝঙ্কার। ওদের সামনে এর বাইরে আর কিছুই দৃশ্যমান নেই, যা দেখে ভুলেও ওরা ভালো কিছু শিখে ফেলতে পারে।

সুস্থ্য সামাজিক সম্পর্ক আর পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ- এ দুটোকে ফিরিয়ে আনা গোটা সমাজের আবশ্যক ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রথম ও অবশ্য করণীয় ধাপ। এক্ষেত্রে ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা সবারই সমান্তরাল দায় আর দায়িত্ব।
নিজের পর্বটি সচেতনভাবে আজ থেকেই নিশ্চিত করুন। তারপর পরিবার।
রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা এগিয়ে আসবে কেবল তখনই, যখন ব্যক্তি ও পরিবার সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে এটা করে উঠবার সাফল্য অর্জন ও তা বহাল রাখতে সক্ষম হবে।
কবি ও কলাম লেখক

প্রিন্ট সংস্করণ
Comments (0)
Add Comment