বৃষ্টি-জলজট-যানজটে নাকাল ঢাকা

সংকটের আশু সমাধান নেই

টানা বৃষ্টি, জলজট আর যানজটে বেশ কিছুদিন থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী আর সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ রীতিমতো সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বর্ষার টানাবৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর প্রায় অধিকাংশ সড়ক।
রাস্তাঘাট, অলিগলি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। ঢাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে প্রায় দিনের অধিকাংশ সময় জুড়েই। মাঝে মাঝে ভারি বর্ষণ। অনেক জায়গাতেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন পথচারীদের অনেকেই। গত কিছুদিন ধরে জলাবদ্ধতার এই চিত্র সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের প্রথম তিন দিন ঢাকা শহরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যানজটের কারণে আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জটিল এক জলাবদ্ধতা। আর এই সংকট থেকে ঢাকাবাসীকে বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। ঢাকার এমন কোনো এলাকা বাকি নেই, যেখানে জলাবদ্ধতা ও যানজট হয়নি। মুগদাপাড়া, বাসাবোর মতো অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার পাশাপাশি ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, রামপুরা, মতিঝিল- এমনকি সচিবালয়ও সাম্প্রতিক এই জলজটের কবলে পড়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত আট বছরে ঢাকার পানিনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর কিছুই করেনি। পাশাপাশি, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পানিনিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি তা বাস্তবায়নের সামর্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলোর একেবারেই নেই।
পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, মেয়র, কয়েকজন বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীর উপস্থিতিতে ঢাকার পানিনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একটি ‘কার্যকর, সময়নির্ভর ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা’ তৈরির কথা উঠেছে বাস্তবে তা কবে আলোর মুখ দেখবে সে বিষয়টিও অনিশ্চিত।
এ প্রসঙ্গে একজন পরিবেশ ও নগর বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, এই মহাপরিকল্পনায় সরকারের বেশ কয়েকটি বিভাগ, সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সদিচ্ছা থাকলেও এটি সময়সাপেক্ষ। কাজেই ঠিক কবে থেকে সত্যিকার অর্থেই কাজ শুরু করা যাবে, সেই বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার এক সময়জটের কাছে বন্দী।

Comments (0)
Add Comment