নতুন চেহারায় সাইবার হামলা

সম্প্রতি বিশ্বকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে ভয়ংকর দুই সাইবার হামলার ঘটনা। কম্পিউটার ভাইরাস ছড়িয়ে একযোগে ৬০টি দেশে সাইবার হামলা সংঘটিত হয়। ‘পেটয়্যা’ বা ‘গোল্ডেন আই’ নামের নতুন এই কম্পিউটার ভাইরাস ইউক্রেন থেকে ছড়িয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গত মে মাসে একযোগে ‘ওয়ানাক্রাই’ র‌্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে ১৫০টি দেশের তিন লাখেরও বেশি কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা।
সাইবার গবেষকেরা বলছেন, এবারের হামলার সঙ্গে মে মাসে পরিচালিত ‘ওয়ানাক্রাই’ হামলার যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্বব্যাপী পরপর এই দুই বড় সাইবার হামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সাইবার হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। একই দিন রাত থেকে ভারতের মুম্বাইয়ে দেশটির জওহরলাল নেহরু বন্দরের তিনটি টার্মিনালের একটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার একটি চকোলেট কারখানারও।
‘পেটয়্যা’ র‌্যানসমওয়্যার হামলায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান বিমানবন্দর, বিভিন্ন ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি ও খ্যাতনামা ড্যানিশ শিপিং কোম্পানি এপি মোলার-মায়েস্কের নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। ভারতের জওহরলাল নেহরু বন্দরের আক্রান্ত টর্মিনালের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এপি মোলার-মায়েস্ক। প্রতিষ্ঠানটির লস অ্যাঞ্জেলেস বিভাগও সাইবার হামলার শিকার হয়। পাশাপাশি ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ ছোটবড় মিলিয়ে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। সাইবার হামলার কারণে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডব্লিউপিপির তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।
মার্কিন বহুজাতিক কুরিয়ার কোম্পানি ফেডেক্স জানিয়েছে, তাদের টিএনটি এক্সপ্রেস বিভাগ এই সাইবার হামলায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে র‌্যানসমওয়্যার হামলা ব্যাপক পরিসরে বাড়ছে। সর্বশেষ হামলাটিও এ ধরনের চাঁদাবাজির জন্যই পরিচালিত হয়েছে। এক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় হলো, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের হামলা ঠেকাতে পারছে না।
নজিরবিহীন এই সাইবার হামলার নেপথ্যের মূল হোতাদের ধরতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাইবার সন্ত্রাসীরা নতুন শক্তিতে নতুন মাত্রায় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। তাদের ঠেকানোর জন্য পূর্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি বিশে^র বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

Comments (0)
Add Comment