এ বছরের মে মাসের কনকনে শীতে যখন পুরো সিডনি শহরের প্রায় মনমরা জবুথবু দশা, ঠিক তখনই সুর আর বর্ণিল মোহন আলোর ছটায় নগরবাসীকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলেছিল মাসব্যাপী আলোক উৎসব ‘ভিভিড সিডনি’ বা ভিভিড ইন্টারন্যাশনাল লাইট ফেস্টিভ্যাল। ভিভিড সিডনি বলতে অনেকেই সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউসের রংবাহারি আলোকসজ্জাকে মনে করে থাকলেও ভিভিডের রয়েছে আরও নানা আকর্ষণ। টানা ২৩ রাত ধরে চোখ ধাঁধানো মন মাতানো রঙিন আলোর সঙ্গে সুর আর নকশার হরেক কল্পনার সম্মিলন ঘটেছিল এই ভিভিড সিডনিতে।
প্রতিবছরই এই আলোর উৎসবে সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজসহ এর আশপাশের এলাকার স্থাপত্য নিদর্শনগুলো সেজে ওঠে রং-বেরঙের বর্ণিল আলোতে। এবার বিশে^র ২৫টিরও বেশি দেশের প্রায় দুই শ’রও বেশি আলোকচিত্র শিল্পীর শিল্পকর্মে ভিভিড সিডনির এই আলোক উৎসবের প্রদর্শনীগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছিল দর্শকদের চোখে।
সিডনিতে এই সময় প্রতিবারই শিল্প আর প্রযুক্তির প্রগাঢ় মেলবন্ধনের এই আলোর উৎসবের প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো দর্শক-পর্যটক। দিনের নিভু নিভু আলো ঢলে পড়লেই সিডনি শহরের এই নজরকাড়া আলোক প্রদর্শনীর অসাধারণত্ব মুগ্ধ করে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরসহ বিশে^র নানাপ্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
হিমেল হাওয়ার ঝাপটা আর সৃষ্টিশীলতার এই বর্ণিল আলোকচ্ছটা ও সুরের সম্মিলিত অর্কেষ্ট্রা হঠাৎই যেন রীতিমতো অচেনা করে তুলেছিল চিরচেনা ব্যস্ততার মহানগর সিডনিকে।
হারবার ব্রিজের আশপাশে মিনিট বিশেক পরপরই বিভিন্ন অংশ থেকে সটান উঠে যাওয়া বহুবর্ণিল আলোর রশ্মি আকাশকেও নানা রঙে রাঙিয়ে তুলেছিল। এছাড়াও, পানির ওপর রঙিন আলোর নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগের জন্য ছিল ওয়াটার ট্যাক্সি ভ্রমণ সুবিধা।
এ বছর ২৬ মে থেকে শুরু হয়ে ভিভিড সিডনি চলেছে ১৭ জুন পর্যন্ত। বিশ্বের লাখো দর্শকের মতোই হাজারো প্রবাসী বাঙালি ও বাঙালি পর্যটকেরাও এসেছিলেন ভিভিড সিডনির এই অসাধারণ আলোকসজ্জা দেখতে।