সম্প্রতি সিডনির রকডেলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কিবরিয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। রকডেল এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে ১৭ আগস্ট কিবরিয়াকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কিবরিয়ার প্রতিবেশীদের একজন জানিয়েছেন যে, কয়েকজন মিলে রকডেলের ওই বাসায় একসঙ্গে ভাড়া থাকতেন কিবরিয়া। তাঁদেরই একজন ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বাসায় ফিরে বারান্দায় কিবরিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে নিয়ে যায়।
কিবরিয়ার বাড়ি চাঁদপুরে। তাঁর বাবা বেঁচে নেই। অস্ট্রেলিয়া আসার আগে তিনি মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন বলেই জানা গেছে। সিডনির টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার
শেষ পৃষ্ঠার পর
এডুকেশনের (ঞঅঋঊ) ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন কিবরিয়া।
কিবরিয়ার বন্ধুদের ভাষ্য, তিনি ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ২০১১ সালে সিডনিতে পড়তে এসেছিলেন। পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ না থাকার কারণে প্রবাসে থাকার খরচ চালাতে গিয়ে তাকে অনেক কঠিন সময় পার করতে হচ্ছিলো। আর এসব কারণে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন তিনি।
কিবরিয়ার বন্ধুরা আরও জানান, গত কয়েক বছরের প্রবাস জীবনে আর সবার মতোই পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন খ-কালীন কাজও করছিলেন কিবরিয়া। কিন্তু মানসিক চাপ, আর্থিক সঙ্কট ও নানা সমস্যার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন, যা তারা বুঝতে পারেননি।
এদিকে, কিবরিয়ার ফেসবুকের সাম্প্রতিক পোস্টে ব্যক্ত হতাশাজনক কিছু স্ক্রিনশটও তার কাছের মানুষজন শেয়ার করেছেন। কিবরিয়ার বন্ধুরা তার লাশ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার এক পর্যায়ে ফেসবুক ও স্থানীয় অনলাইন পত্রিকাগুলোতে আবেদন জানান। সর্বশেষ জানা গেছে, কিবরিয়ার লাশ দেশে পাঠানোর জন্য সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় কিবরিয়ার বন্ধুরাসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী শেষপর্যন্ত নিজেরাই তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।