মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানের ভয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের সীমান্তের নাফ নদী দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় বর্তমানে হাজারো রোহিঙ্গা অপেক্ষায় রয়েছে। রবিবার ২৭ আগস্ট সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কমপক্ষে ৩ হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৫ জন এসেছে গুলিবিদ্ধ ও দগ্ধ অবস্থায়। শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন রাখাইনের গুলিবিদ্ধ যুবক মোহাম্মদ মুসা।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সৃষ্ট গোলযোগের কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম।
শনিবার দুপুরে এই গুলিবর্ষণের পর সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এদিকে, রাখাইন রাজ্যে সর্বশেষ সহিংসতার জেরে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকায় মিয়ানমারের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং মিন্টকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ কথা জানানো হয়।
জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু এলাকায় শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে গুলি চালায় মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক রাতে ৩০টি পুলিশ পোস্টে হামলার ঘটনার পর উত্তেজনা আর শঙ্কার মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টায় রয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশে প্রবেশের পর নাফ নদীর প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীরে বসে আছে সহায় সম্বলহীন কয়েক হাজার মানুষ। কক্সবাজারের ভেতরে তারা যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। এর আগের রাতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক ১৪৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে মিয়ানমারে।
মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৭১ জন নিহত হয়।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে কয়েক দশক ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ মিয়ানমার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও নতুন করে শরণার্থী নিতে অপরাগতা জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন করে আশ্রয় না দেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যুক্তি দেখানো হচ্ছে।