বজ্র-বিদ্যুতের বিয়োগান্তক ইতি

289

বোল্ট অর্থ বজ্র-বিদ্যুৎ। আর এই নামটিকে তার ক্যারিয়ারজুড়ে সফল সার্থক করেছেন ট্র্যাকে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে। খেতাব পেয়েছিলেন এই গ্রহের সেরা দৌড়বিদ, ‘গতি-দানব’ নামে। কেউ কেউ বলতেন কোনো বিশেষণই তার নামের পাশে মানানসই নয়! এমনটা হবে নাই বা কেন, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রতিপক্ষকে নিয়ে যেন নিছক ছেলেখেলাতেই মেতে উঠতেন এই ৩০ বছর বয়সী জ্যামাইকান গতি তারকা উসাইন বোল্ট।
কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর। শেষবারের মতো ট্র্যাকে নেমে দৌড়ই যে শেষ করতে পারেননি উসাইন বোল্ট। দৌড় নয়, আক্ষরিক অর্থেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটেই ট্র্যাক থেকে বিদায় নিতে হয়েছে অলিম্পিকে ৮ স্বর্ণজয়ী এই অ্যাথলেটকে।
১২ আগস্ট লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে তার ক্যারিয়ারের শেষ ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে ফিনিশিং লাইন পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেননি এই জ্যামাইকান দৌড়বিদ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে লুটিয়ে পড়েন ট্র্যাকেই! ইনজুরি-আক্রান্ত বোল্টকে ট্র্যাক থেকে রীতিমতো হুইলচেয়ারে করেই বাইরে নিয়ে আসা হয়। লন্ডন স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার সমর্থককে বেদনায় ডুবিয়ে আশাহত করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই অ্যাথলেট।
বোল্টের ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতাটি নিয়ে পুরোবিশ্বই দারুণ আশাবাদী ছিল। আর সে কারণেই ম্যাকলিওড, ফোর্টে, বোল্ট ও ২০১১ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়োহান ব্লেককে নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেছিল জ্যামাইকা। লন্ডন স্টেডিয়ামে আগত সমর্থকরা নিজ নিজ দেশকে বাদ দিয়ে যেন বোল্টকে দেখতে, তাকে শেষবারের মতো সমর্থন দিতেই উন্মুখ ছিল। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনটির মনোযোগও আটকে ছিল বোল্টের দিকেই।
প্রথম তিন লেগে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জ্যামাইকা সমানতালেই লড়াই চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোল্ট পড়ে গেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে জাপান। এর মাধ্যমে ১০০ ও ২০০ মিটারে বিশ্বরেকর্ডধারী বোল্ট ১১টি বিশ্ব আসরের পদক নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন। ২০১১ সালে ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। ওই একটি কালো অধ্যায় ছাড়া ২০০৯ সাল থেকে এ আসর পর্যন্ত ১০০, ২০০ এবং ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে সোনা জিতেছিলেন তিনি।
লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনের বিপক্ষে হেরে তৃতীয় হয়েছিলেন বোল্ট। আর ১০০ মিটার রিলেতে আরও বড় হতাশাকে সঙ্গী করে বিদায় নিতে হয় ১০০ ও ২০০ মিটারে রেকর্ড সৃষ্টিকারী জ্যামাইকান এই গতিদানবকে।
পুরো ক্যারিয়ারে একবারই মাত্র ব্রোঞ্জপদক হাতে নিয়েছেন উসাইন বোল্ট। সেটিও তার ক্যারিয়ারের একেবারে গোধূলিবেলায়। ক্যারিয়ারের শেষ লন্ডন বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটার দৌড়ে জুটেছে এই ব্রোঞ্জ। নিয়তির কি পরিহাস!

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.