বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব প্রদানের পরিবর্তিত আইন প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির সংসদীয় তদন্ত কমিটি। গত ২০ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব প্রদানের আইনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির এই পরামর্শ কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে অভিবাসীদের মাঝে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বহুজাতিক
সংস্কৃতি শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে একটি সংসদীয় কমিটি নির্বাচন করে এদেশের সিনেট। বহুজাতিক অভিবাসীদের এই দেশটিতে সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এই সংসদীয় কমিটিই সরকারের নাগরিকত্ব আইনে আনা বিভিন্ন পরিবর্তন বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে। এদেশের বহুজাতিক আইনের আওতায় নাগরিকত্ব আইনে আনা পরিবর্তনগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলেই জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এই কমিটির প্রধান রিচার্ড ডি ন্যাটেলে এ প্রসঙ্গে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ঘৃণামূলক নেতিবাচক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমন বাস্তবতায় নাগরিকত্ব আইনের এই কঠোরতা বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব প্রদানের নতুন আইনে অভিবাসীদের অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হলে এক বছরের পরিবর্তে ন্যূনতম চার বছর অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে, এমনটি বলা হয়েছিল। এছাড়া, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছিল অনেক বেশি, যা কিনা আইইএলটিএস এর ন্যূনতম ৬ স্কোরের সমান। সংসদীয় কমিটি এসব প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে টার্নবুল সরকারের কঠোরতা হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।
তবে ভাষার দক্ষতা প্রমাণে আবশ্যিক শর্ত সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করার আইনের ক্ষেত্রে দ্বিমত হলেও ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই জানিয়েছে কমিটি। তবে সেই পরীক্ষা মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের হওয়া উচিত বলেও মনে করে এই সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের কেউই এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
তথ্যসূত্র: এসবিএস