মাঠের পাশেই ছিলেন সবাই। তৎপর চোখ রাখছিলেন। খেলা চলছিল ম্যাচ করে। আদতে অনুশীলন। ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেট কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহ, কোর্টনি ওয়ালশ। ছিলেন ট্রেইনার মারিও ভিল্লাভারায়ণও; হঠাৎই তাদের সবার নজর পড়ল দূর থেকে হেঁটে আসা এক ¯িœগ্ধশ্যাম তরুণের দিকে। আর তাকে দেখেই হাসি ফুটে উঠল সবার মুখে। নাম তার চম্পকা রামানায়েকে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম বোলিং কোচ ছিলেন সাবেক এই শ্রীলঙ্কান পেসার। অবশ্য এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তার ভূমিকা একটু ভিন্নই বলতে হবে। আর এ কারণে ঢাকা পৌঁছেই সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেছেন তার দায়িত্ব। তিনি এদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটারদের হাই পারফরম্যান্স ফাস্ট বোলিং কোচ।
চম্পকা জানিয়েছেন, এর আগে বেশ কয়েকমাস একাডেমিতে কাজ করে পরে জাতীয় দলের জন্য কাজ করেছেন। আর এবার কাজ করবেন উঠতি সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে। আরও জানালেন, যারা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়বে, কিংবা ‘এ’ দলে থাকবে; এমন ক্রিকেটারদের নিয়ে তিনি কাজ করবেন।
এর আগে প্রথমবার বোলিং কোচ হিসেবে যখন ছিলেন চম্পকা, সে সময় সবাই কমবেশি তার কাজে সন্তুষ্ট ছিলেন। যে কারণে চম্পকার মেয়াদও বাড়াতে চেয়েছিল বোর্ড। কিন্তু বনিবনা হয়নি পারিশ্রমিকে। যাহোক, সেবার দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। সেটা ২০১০ সাল। তারপর থেকে বোলিং কোচ হিসেবে তার খ্যাতি আরও বেড়েছে। এই সাম্প্রতিক সময়ে দলে বোলিং আর পেস বোলারের শূন্যতা নিয়ে টানা আলোচনার মধ্যে চম্পকার কথা নতুন করে আবারও তুলেছিলেন জাতীয় দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটাররা। অবশ্য চম্পকাকে ফিরিয়ে আনতেই চাইছিল বিসিবি। তাই এবার সব চাহিদা মিটিয়েই ডেকে আনা হয়েছে তাকে। এদিকে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে তার প্রতি আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, সে বিষয়টি ভালো করেই জানেন চম্পকা। এরই মধ্যে নিজের কাজের এবারের গতিপ্রকৃতিও নির্ধারণ করে ফেলেছেন। প্রতিভার অন্বেষণে ঘুরবেন বাংলাদেশ জুড়ে। এরপর দেশের ক্রিকেটকে দিতে চান নতুন প্রতিভা। আগের কথা স্মরণ আছে তার। বাংলাদেশের ক্রিকেট যে এখন বদলেছে সেটাও স্পষ্ট জানেন। জানেন তার সেই ২০০৮ কিংবা ১০ সালের থেকে ক্রিকেটে এখন ভিন্ন বাংলাদেশ। অনেক বেশি ক্রিকেটার, টগবগে তরুণ প্রতিভারা রয়েছেন দেশজুড়েই।
চম্পকা এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেইসব হিরের টুকরো কুড়িয়ে আনতে চান। তাদের খুঁজে বের করা আর হিরের ফাইন কাটের জন্য ঘাম ঝরাতেও মুখিয়ে আছেন চম্পকা। তার কোচিং সম্পর্কে জানিয়েছেন, তা থাকবে তার মতোই। অর্থাৎ সেটা একই ধরনেরই থাকবে। তবে, তার এবারের লক্ষ্য খুঁজে বের করা সেইসব প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে, যাদের আগে কেউ দেখেনি। বাংলাদেশ ঘুরে খুঁজে বের করে আনবেন তরুণ সব প্রতিভা। চম্পকা বিশ^াস করেন, ক্রিকেট-অন্তপ্রাণ এই দেশে প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটাররা অবশ্যই আছে। আর তিনি তাদের খুঁজে বের করবেন। যেভাবে এর আগে চম্পকা উপহার দিয়েছিলেন রুবেল হোসেনকে। আপাতত চম্পকার দায়িত্বের মেয়াদ দুই বছর। প্রতিভা অন্বেষণ আর উঠতি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দরকার পড়লে কাজ করবেন জাতীয় দলের পেসারদের জন্যও। তাই এই বিষয়টিও মাথাতে রেখেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে হয়তো আবারও আমরা পেস বোলিংয়ের সুসময় দেখতে পাবো। চম্পকা রামানায়েকের হাত ধরে এদেশের ক্রিকেটের স্বপ্ন, এদেশের পেস বোলিংয়ের সামর্থ্য হয়তো নতুন মাত্রা পাবে।