সারা পৃথিবীতে কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলেই বসবাস করে কোয়ালা। দেখতে ছোট ভালুকের মতো হলেও এই প্রাণীটি কিন্তু ভালুক নয়, শারীরিক গঠনে বরং ক্যাঙ্গারুর সঙ্গেই এর বেশি মিল। আবার ক্যাঙ্গারুর মতো বাচ্চাকে পেটের মধ্যে একটা আলাদা থলেতে বহন করে কোয়ালা। পুরো অস্ট্রেলিয়াতেই কোয়ালার বিশেষ কদর আর সবাই এই নিরীহ প্রাণীটিকে ভালোও বাসেন। সম্প্রতি এই নিরীহদর্শন প্রাণীটি অ্যাডভেঞ্চার করতেই বোধহয় সিডনির এক বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু তার এই অ্যাডভেঞ্চারের জেরে রীতিমতো আতঙ্কিতই হয়ে পড়েছিলেন সে বাড়ির অধিবাসী। কোয়ালাটি তার ইউক্যালিপ্টাস গাছের বাসা থেকে কৌতুহলী হয়ে সিডনির সেই বাড়ির গৃহকর্ত্রীর লন্ড্রিঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রী রাতে পুলিশকে ফোন করে জানান যে, একটা কোয়ালা তার লন্ড্রিঘরে ঢুকে পড়েছে। আদতে পশু কল্যাণ সেবাদাতাদের কাউকে না
পেয়ে শেষতক তিনি পুলিশকে ফোন দিয়েই কোয়ালার এই কীর্তিও কথা জানান। আর পুলিশও দ্রুততার সঙ্গে বন্যপ্রাণী উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অভিজ্ঞতা- সম্পন্ন এক পুলিশ কর্মকর্তাকেই পাঠায়।
তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই লন্ড্রিঘর থেকে কোয়ালাটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রাণীটিকে বাড়ির পেছনে ছেড়ে দেন। এক সময় কোয়ালাটিও ফিরে যায় তার ইউক্যালিপটাসের বাসায়।
প্রসঙ্গত, কোয়ালা দেখতে বেশ ছোটখাটোই হয়। প্রাপ্তবয়স্ক কোয়ালার ওজন সাধারণত ২০ পাউন্ডের মতো আর দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। নিরামিষাশী প্রাণী কোয়ালা পাতা খেয়েই জীবনধারণ করে। প্রিয় খাদ্য ইউক্যালিপ্টাস গাছের পাতা। সাধারণত একটা কোয়ালা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।