আধুনিকায়ন চাই, বিকৃতি নয়

100

চীনা ভাষায় এমন আরও বহু জটিলতা ছিল। তারা তাদের আদি ভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম ও বিশ্বায়নের জন্য ভাষা সরল করেছে।

বাংলাদেশে এবারের ঈদে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘ইদ’। ছেলেবেলা থেকে আমরা ‘ঈদ’ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু বাংলা একাডেমির অভিধানে ‘ঈদ’ এবং ‘ইদ’ দুটিই রাখা হয়েছে। অভিধানে ‘ইদ’কেই সঙ্গত বলা হয়েছে। ঈদ একটি আরবি শব্দ। সম্ভবত কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম ‘ঈদ’ বানানটি ব্যবহার করেছেন। তারপর থেকেই তা চলে এসেছে। বাংলা একাডেমির যুক্তি যেহেতু ‘ঈদ’ একটি বিদেশি শব্দ, তাই ‘ইদ’ হওয়াই সঙ্গত।
কিন্তু যেহেতু অনেকদিন ধরে চলে এসেছে, তাই ‘ঈদ’ হওয়াই সঙ্গততর। শুধু ঈদ নয়, এ ধরনের আরো অনেক বিদেশি শব্দ আছে, যা প্রচলিত। যেমন চীন, লীগ। আপনি যতই নিয়ম বা ব্যাকরণের দোহাই দিন ‘আওয়ামী লীগ’কে কখনো ‘আওয়ামি লিগ’ বানাতে পারবেন? এমনকি বাংলা একাডেমীর বানানও দীর্ঘদিন ভুল ছিল। পরে এসে ‘বাংলা একাডেমি’ তাদের নামের বানান ঠিক করেছে। ‘ঈদ’ বিতর্ক নতুন নয়। সম্ভবত ১৯৯৩ সালে জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি অভিধানে প্রথম ‘ঈদ’ এবং ‘ইদ’ দুটি ভুক্তিই রাখা হয়েছে।
কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ সামাজিক মাধ্যমে কেন, কীভাবে, কারা বিতর্কটি তুলেছে; তার অনুসন্ধান করতে পারিনি। তবে সেই বিতর্কের ঢেউ এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে গণমাধ্যমেও ধাক্কা দিয়েছে। বিতর্কটি আমার কাছে ভালো লাগছে। কারণ আর দশটা বিতর্কের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এই বিতর্ক থেকে আমি কিছু শিখছি।
বাংলা বানান নিয়ে, ভাষা নিয়ে দারুণ প্রাণবন্ত বিতর্কে প্রতিদিনই আমি সমৃদ্ধ হচ্ছি। তবে অন্য সব বিতর্কের মতো এই বিতর্কেও কিছু লোক আছে, যারা বুঝে, না বুঝে প্রতিষ্ঠানকে গালাগাল করছে। এই বিতর্কে প্রতিষ্ঠান হলো বাংলা একাডেমি। তাই কিছু লোক বুঝে না বুঝে বাংলা একাডমিকে তুলাধুনা করছে। বিতর্কটা হচ্ছে বলে ফেসবুকে কিছু জ্ঞানের কথা হচ্ছে বটে, তবে বিতর্কটাই খুব অপ্রয়োজনীয়।
ফেসবুকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের ছোট্ট স্ট্যাটাসই এই বিতর্কের ইতি টানার জন্য যথেষ্ট- ‘‘বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে প্রথম বানান হিসাবে ‘দ’ এবং বিকল্প বানান ‘ইদ’ দেয়া আছে। প্রথম বানানটি প্রচলিত; ২য় বানানটি সংস্কারকৃত। কোন মানুষ দীর্ঘকাল কোন বানান ব্যবহার করলে তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়ে যায়। ‘ঈদ’ বানানটি তেমনি। অতএব, দুটি বানানই ব্যবহার করা যায়।’’ তারপরও কিন্তু এ বিতর্ক থামেনি।
টেলিভিশনে সার্ফ এক্সেলের একটি বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তবে তো দাগই ভালো।’ তেমনি বিতর্ক থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তাহলে তো বিতর্কই ভালো। তাই রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ির চেয়ে বরং ভাষা নিয়ে, বানান নিয়ে বিতর্ক চলুক।
এই বিতর্কে অংশ নেওয়ার মতো জ্ঞান আমার নেই। আমি বরং প্রতিদিন বিতর্ক থেকে শিখি। তবু বিতর্ক থেকে আড়ালে থাকতে পারলাম না। এই বিতর্কের মধ্যেই এটিএন নিউজে আমার সহকর্মী গোলাম কাদির রবু ঈদের অর্থনীতি নিয়ে রিপোর্ট লিখে নিয়ে আসলেন, যার প্রথম শব্দটি ‘ইদ’।
তা দেখে আমি ফেসবুকে লিখলাম- ‘‘এটিএন নিউজের রিপোর্টার আরাফাত সিদ্দিকীর নিজস্ব বানানরীতি আছে। কোনো অভিধানের সাথেই তা মেলে না। আরাফাত যখন যা মনে আসে, তাই লেখেন। টেলিভিশন বলে আপনাদের আরাফাতের সেই ভয়ঙ্কর বানানরীতি দেখতে হয় না। পত্রিকা হলে আরাফাতের জন্য একজন আলাদা প্রুফরিডার রাখতে হতো।
আমার লাঠির নাগালে থাকলে আরাফাত কাচুমাচু করে বলে, ভাইয়া শিফটে চাপ পড়ে গেছে। আর নাগালের বাইরে থাকলে দাবি করে, একসময় বাংলা একাডেমিসহ সবাই তার লাইনেই আসবে। বাংলা বর্ণমালায় একাধিক ‘ন’, ‘র’ ‘স’ ‘ই’ ‘উ’ ইত্যাদি জটিলতা থাকবে না। সব জলবৎ তরলং হয়ে যাবে। আমার মনে হয় আরাফাতের স্বপ্নের সেইদিন খুব কাছে চলে এসেছে।
‘ঈদ’ যদি ‘ইদ’ হয়ে যায়, তাহলে আর ‘ঈ’ ‘ঊ’, ‘ণ’ ‘শ’ ‘ষ’ ‘ঢ়’ ‘ড়’-এর ভেজাল রাখার দরকার কি? তবে নিজস্ব বানানরীতির আবিষ্কারক আরাফাত সিদ্দিকীও ‘ঈদ’কে ‘ইদ’ বানানোর আবদারে ক্ষুব্ধ।
আরাফাত তবুও শিফটের ওপর দায় চাপান, কিন্তু আমাদের বিজনেস রিপোর্টার গোলাম কাদের রবু আরও আধুনিক। কম্পিউটার কি-বোর্ডে যে শিফট বলে একটা বাটন আছে, এটাই তার জানা নেই। ঈদের অর্থনীতি নিয়ে এক রিপোর্টে লিখেছেন ‘ইদ’।
তাকে ডেকে বললাম, আপনি বাংলা একাডেমির দালাল নাকি, ‘ইদ’ লিখেছেন যে। রবু খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললো, ঘটনা মনে হয় উল্টো। বাংলা একাডেমিই মনে হচ্ছে আমার কথা ভেবে ‘ঈদ’কে ‘ইদ’ বানিয়েছে। কারণ আমি ‘ঈদ’ লিখতেই পারি না।
তবে আমার আরেক বন্ধু বলেছেন, যাদের মাথা থেকে ‘ঈদ’কে ‘ইদ’ বানানোর আইডিয়া এসেছে, তাদের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করলে কি আইন মাথায় তুলে নেওয়া হবে? অবশ্য ৫৭ ধারার ভয়ে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। ফেসবুকে এইভাবে পাবলিক মন্তব্য করায় আরাফাতের গায়ে লেগেছে মনে হয়। তাই অফিসে বসে অভিযোগের ডাবল সাইজের এক জবাব লিখলেন তিনি। লেখার পর কম্পিউটারের স্পেল চেকারে একবার এবং আমাদের সবজান্তা গনি আদমকে দিয়ে চেক করিয়ে জবাব পোস্ট করলেন, ‘ভাইয়া, আপনার লাঠির ভয়ে অনেক কথাই বলতে পারি না। ফেসবুকের এই সুযোগটা তাই কাজে লাগালাম। বাংলা বানান নিয়ে কনফিউজড হয়ে থাকা এই আরাফাত সিদ্দিকীর কনফিউশনের পেছনে কিন্তু বহু কারণ আছে।
ছোটবেলায় পড়েছি, যে ই-কারের স্বরটা দীর্ঘ সেটা ঈ-কার। যেমন গাড়ী, বাড়ী, শাড়ী, নারী ইত্যাদি। একটু ওপরের ক্লাসে উঠেই পড়লাম, সকল অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ‘ই’ এবং এদের -কার চিহ্ন ই-কার ব্যবহৃত হবে। এমনকি স্ত্রীবাচক ও জাতিবাচক ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রাতারাতি গাড়ি, চুরি, বাড়ি সব ই-কার হলো। কেবল পিছিয়ে পড়লো নারী।
আবার, বিদেশি শব্দ হয়েও ইসলামী, নবী, আলী, শহীদ, গাজী ইত্যাদির ঈ-কার রয়ে গেলো বহাল তবিয়তে। আরেকটু ওপরের ক্লাসে উঠে পড়লাম, অনেক ঈ-কার সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী ই-কারে পরিণত হতে পারে। যেমন প্রাণীর জগৎ হচ্ছে প্রাণিজগৎ। সমাসবদ্ধ হওয়ার সময় প্রাণীর প্রাণ ঈ-কার গেলো। অনেক মন্ত্রী একত্রিত হয়ে ‘গুরুত্ব’ হারালেন, হলেন ‘মন্ত্রিগণ।’
আচ্ছা বুঝলাম। শিখলাম। তাহলে মন্ত্রীরা কেন হবে? এই উত্তর জানতে প্রাইভেট পড়া শুরু করলাম। স্যার বললেন, বাংলা রা বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় মন্ত্রীরা বানানে কারের পরিবর্তন হয়নি। আচ্ছা, আমি খুশি, আমার স্যার অনেক জানেন। ক’দিন পরেই শুনি, তৎসম শব্দ যদি বিশেষণ হয় তাহলে বানানের অন্তে ঈ-কার হবে। যেমন- উপকারী, জয়ী, আগামী, কর্মচারী, যুদ্ধাপরাধী, প্রবাসী ইত্যাদি।
আচ্ছা মানলাম। খাতায় লিখলাম ‘উপকারীতা’। স্যার দিলেন ‘মাইর’। বললেন, এতদিন এই শিখলি! স্যার বললেন, ঈ-কারান্ত বিশেষণবাচক পদের শেষে তা ও ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য-এ পরিণত হয়। তখন পদ পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈ-কার ই-কার-এ রূপ নেবে। যেমন, উপকারী+তা = উপকারিতা, সহযোগী+তা = সহযোগিতা, কৃতী+ত্ব = কৃতিত্ব।
ভাইয়া ছোট্ট আরাফাত তখন ভাবলো এতো বুঝে কাজ নাই; এই শব্দগুলো মুখস্থ করি। কারণ আমি ততদিনে নিশ্চিন্ত, বাংলা বানান আসলে নির্ভর করে স্যারদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। স্যারেরা যা বলবেন সেটাই ঠিক। আমাকে স্যার হতে হলে বাংলায় অনার্স মাস্টার্স করতে হবে। কিন্তু আমি তো পড়বো সাংবাদিকতায়। তাহলে উপায়? উপায় ছাত্র থাকার সময় পাইনি। এখন একটা উপায় জানি।
চীনা ভাষায় এমন আরও বহু জটিলতা ছিল। তারা তাদের আদি ভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম ও বিশ্বায়নের জন্য ভাষা সরল করেছে। আসলে আমার মতো আরাফাত সিদ্দিকী তৈরির পেছনে বাংলা একাডেমির আজীবন কনফিউজড হয়ে থাকার দায় অনেকখানি। এবং এই কনফিউশনগুলো ঠিক না হলে ভবিষ্যতে আমার মতো হাজারো আরাফাত সিদ্দিকী তৈরি হবে।
বলছি না চীনকে অনুসরণ করতে হবে, কিন্তু এই বিশ্বায়নের যুগে বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে ও আরও ছড়িয়ে দিতে সরলীকরণ জরুরি। অন্তত কনফিউশন গুলো দূর করতে হবে। আর ঈদ আসলে ইদ হবে না। কারণ তাহলে লীগ শব্দটা লিগ বানাতে হবে। নবী থেকে নবি করা খুব একটা সহজ হবে না।
আরাফাতের জবাব পড়ে আমি ভড়কে গেছি। বুঝেছি আরাফাত জেনে বুঝে, ইচ্ছা করে আমাদের জ্বালানোর জন্য অদ্ভূতুড়ে বানান লেখে। আরাফাতের জবাব থেকেও আমি অনেক কিছু শিখেছি। বিশ্ব ভরা পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র। আমি ভাষাবিদ নই। তবে আমি জানি, ভাষা একটি প্রবহমান বিষয়। সময়ে সময়ে এই প্রবাহে মিশে যায় অনেককিছু; যা ভাষাকে সমৃদ্ধ করে।
অনেক বিদেশি শব্দ এখন বাংলা ভাষায় মিশে গেছে। যুগে যুগে, কালে কালে পাল্টে যায় ভাষার রকম-সকম। হাজার বছর আগের চর্যাপদ বা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে এখনকার বাংলা মিলবেই না। অত দূরে যাওয়ারও দরকার নেই। মাইকেল মধুসূদন বা বঙ্কিমচন্দ্রের লেখাও অনেকের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকে। এখনকার ফেসবুক প্রজন্ম তো শুনি রবীন্দ্রনাথকেও দাদু ডাকে এবং তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করে।
ভাষার পাল্টে যাওয়া দোষের কিছু নয়। তবে নদীর প্রবাহে পানি যেমন থাকে, তেমনি আবর্জনাও মেশে। প্রবহমান ভাষায় চমৎকার নতুন সব শব্দের পাশাপাশি মিশে যায় অনেক আবর্জনাও। ভাষার আধুনিকায়নে আমার আপত্তি নেই। আসলে আমি আপত্তি করলেও লাভ নেই। সময়ের বিবর্তনে বদল যা হওয়ার তা হয়েই যাবে, ঠেকানো যাবে না। তবে আমি একটু পুরনো ঘরানার মানুষ। আমি সব নিয়ম মেনেই পরিবর্তনের পক্ষে। সরলীকরণের নামে ভাষাকে-বানানকে উলঙ্গ করে ফেলায় আমার আপত্তি। যেমন এখন এফএম রেডিওতে ভাষার বিবর্তন বা আধুনিকায়নের নামে যে নৈরাজ্য চলছে, তাতে আমার প্রবল আপত্তি ও বিরক্তি। আপনি যতই যুক্তি দিন, এফএম রেডিওর ‘খচ্চর’ মার্কা বাংলিশ আমি কিছুতেই মানবো না। এটা মোটেই স্মার্টনেস নয়। এতদিন জানতাম জটিল একটি নেতিবাচক শব্দ। ‘অমুক জটিল মানুষ’ মানে তিনি মানুষ ভালো না, পেটে অনেক প্যাঁচ। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, ‘অমুককে জটিল লাগছে’, এর অর্থ নাকি অনেক ভালো লাগছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে কি আপনি একমত? আমি কিন্তু একমত নই।
আমি বানান বিশারদ নই, ছেলেবেলায় পড়া ব্যাকরণের সব নিয়ম কানুন মনেও নেই। কিন্তু ভুল বানান আমার চোখের বালি, দেখলেই চোখ কচকচ করে। ছেলেবেলায় পড়া বই-পত্রিকার কারণে ভুল বানান দেখলেই বুঝি যে বানানটা ভুল। ১৯৮৯ সালে বিচিন্তা সম্পাদক মিনার মাহমুদ আমার প্রথম রিপোর্ট সম্পাদনা করেছিলেন। আমি এক জায়গায় লিখেছিলাম ‘ঝাকজমকপূর্ণ’। মিনার ভাই বললেন, ঠিক হয়নি, ‘ঝ’ নয় ‘জ’ হবে। আমি তো একটা চন্দ্রবিন্দুও দেখতে পাচ্ছি। তার মানে ঠিক বানান হলো ‘জাঁকজমকপূর্ণ’। এই যে দেখতে পাওয়া, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এখন বানান নিয়ে এত বিভ্রান্তি, এত ভুল- শিশুরা কোনটা শিখবে? পত্রিকায় তবু প্রুফ রিডার আছে, টেলিভিশনে তো তাও নেই। টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখা ভুল বানানটাই যদি শিশুদের চোখে লেগে যায়; তাহলে দোষ কার? ভাষার আধুনিকায়নে, বিবর্তনে আমার আপত্তি নেই। তবে তা যেন বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু আধুনিকায়নের নামে যদি ভাষার সৌন্দর্য্য, ব্যঞ্জনা নষ্ট হয়ে যায়; তাহলে আমি অন্তত তা মানবো না। ‘আষাঢ়’ শব্দটি দেখলে যেমন একটা রিমঝিম ভেজা অনুভূতি হয়, মনের ডালে কদম ফোটে, ‘আসার’ দেখলে কিন্তু তা হবে না। বাংলা ভাষাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসলে আমি ‘মন’ আর ‘মণ’-এর পার্থক্যটা ধরতে পারবো। মানুষ যে নাড়ি’র টানে বাড়ি যায়, নারী’র টানে নয়; এটা বুঝতে ভাষাবিজ্ঞানী হতে হয় না।
রক্ত দিয়ে কেনা এই বাংলা ভাষা আমাদের ভালোবাসার নাম। আমি ভাষার আধুনিকায়ন চাই, বিকৃতি নয়।
লেখক সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.