অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শিয়া মুসলমানদের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি সন্দেহভাজন ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ এনেছে অষ্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও ফেডারেল পুলিশ। পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস অনুপ্রাণিত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যেই তারা এমনটি করেছে।
এদের মধ্যে দুজন গতবছর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিলেন সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায়। ২৫ ও ২৭ বছর বয়সী ওই দুইজন গতবছরের বড়দিনে মেলবোর্নে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলেই সন্দেহ পুলিশের। অপরজন ২৯ বছর বয়সী মেলবোর্নের এক বাসিন্দাকে ১৯ আগস্ট শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন যুবক সুন্নি মতাবলম্বী বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মেলবোর্নের ইমাম আলী ইসলামিক সেন্টারে অগ্নিসংযোগ করার অপরাধে এই তিনজন দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমাজে উপাসনালয়ে হামলাকারীর কোনো স্থান নেই। এ প্রসঙ্গে পুলিশের সহকারী কমিশনার ইয়ান ম্যাককার্টনি বলেছেন, ‘এটা স্পষ্ট যে মসজিদে যারা উপস্থিত হতেন তাদের এবং অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যেই এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাকে সৈন্য পাঠানো অস্ট্রেলিয়া ২০১৪ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্য-ফেরত কিংবা তাদের মদদপুষ্ট ঘরোয়া জঙ্গিদের হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে রেখেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকবারই ‘লোন উলফ’ জঙ্গিরা এদেশে হামলার চেষ্টা করেছে; অন্ততপক্ষে ১৩টি এমন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: নিউজডটকম, এবিসি