সবেধন নীলমনি ‘রুবেল মিয়া’

293

দেশের ফুটবলে গোল করতে পারা স্ট্রাইকারের এখন বড় দুর্দিন। নতুন প্রতিভা বা মুখের দেখা নেই বললেই চলে। তবে দ’ুএকজন আছেন যারা উঠে আসছেন, কিছুটা হলেও আলো ছড়াচ্ছেন। আর এমনই এক তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার রুবেল মিয়া। বয়স মাত্র ২২। দোহারা গড়ন। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। ছোটখাটো গড়নের রুবেল খেলেন আবাহনীর হয়ে। ক্যারিশম্যাটিক গোল করার সক্ষমতা দেখিয়ে ভক্তদের কাছে ‘ম্যাজিশিয়ান’ তকমাও পেয়েছেন। গত এক বছর ধরেই তিনি চোখ ধাঁধানো সব গোল করছেন।

আবাহনীর ক্রোয়েশিয়ান কোচ দ্রাগো মামিচ রুবেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মামিচ জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচেই নিজের জাত চেনাচ্ছেন রুবেল। গোল করছেন, করাচ্ছেন। এ বছরের মে মাসে এএফপি কাপে ভারতের বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে প্রায় মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন। সেই দূরপাল্লার শটে রুবেলের গোল করার পর এ নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রুবেলের সেই গোল যে ভাইরাল হয়েছিল তা বলাইবাহুল্য।

২০১৩ সালে ইরাকে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী কুয়েতের বিপক্ষে রুবেলের একমাত্র গোলেই জিতেছিল বাংলাদেশ। ঘরোয়া ফুটবলেও দর্শনীয় সব গোল করছেন রুবেল। গত মৌসুমে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে চোখধাঁধানো এক বাইসাইকেল কিকের গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রুবেল স্কুল ফুটবলের আবিষ্কার। ২০০৯ সালে সিটিসেল স্কুল ফুটবল দিয়ে নিজেকে চিনিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর খেললেন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে, যুবদলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সফর করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘুরে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে  খেলেন বঙ্গবন্ধু কাপ। জাতীয় দলের জার্সিটাও পেয়ে গেছেন। মালদ্বীপের বিপক্ষে মালেতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক তাঁর।

মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন রুবেল। বড় দুই ভাই সংসারের  জোয়াল কাঁধে তুলে নিয়ে বুঝতে দেননি অভাবের কষ্ট। ফুটবলের বাইরে তাঁর কোনো জীবন নেই। রুবেলের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররাই আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.