শেষপর্যন্ত দেশ ছেড়ে ‘পালালেন’ ইংলাক

351

থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি মামলার রায়ের আগেই গোপনে দেশত্যাগ করেছেন ইংলাক। তার দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। জানা গেছে, ২৪ আগস্ট এই মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল।
এদিন ইংলাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় এই মামলার রায়ের তারিখ পেছানো হয়েছে। এদিকে, রায় পেছানোর সংবাদেও পাশাপাশি গণমাধ্যম- গুলোকে ইংলাকের দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, রায় হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশত্যাগ করেন ইংলাক।
এদিকে ইংলাক আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
যদিও ইংলাকের আইনজীবি আদালতকে জানান যে, ইংলাক অসুস্থ। যে কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। কিন্তু আদালত অস্বীকৃতি জানিয়ে রায়ের নতুন তারিখ ধার্য্য করেন। আদালতের রায়ে এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে। পাশাপাশি তিনি আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
আলোচিত এই রায়কে নিয়ে দেশটিতে উত্তেজনা এবং অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পাশাপাশি, রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশটিতে এই বিষয়টির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।
ইংলাক যে আসলেই দেশত্যাগ করেছেন সে বিষয়টি এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে।
ইংলাকের দলের সূত্রগুলো রয়টার্সকে বলেছে, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই থাইল্যান্ড ত্যাগ’ করেছেন। অবশ্য, ঠিক কোথায় পালিয়ে গিয়েছেন ইংলাক, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছুই জানায়নি।
এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা জানিয়েছেন, সবখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তের তল্লাশিচৌকিগুলোকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২২ মে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার মাত্র কয়েকদিন আগে আদালতের এক বিতর্কিত আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ২০১১ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ইংলাক দেশটির স্বেচ্ছানির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.