মর্মান্তিক!

481

‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু গাড়িতে খুব দ্রুত আগুন লেগে যাওয়াতে সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে পড়ে, চোখের সামনে এভাবে বন্ধুকে হারাব তা কখনও ভাবিনি’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথা বলছিলেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরফান মুন্নার বন্ধুরা। গত ২৫ জুন অষ্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরির ডারউইনে অবস্থিত লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্কের কাছাকাছি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরফান মুন্না এবং তার ফিলিপিনো বান্ধবী রিসা ক্যারামায়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ডারউইন পুলিশের ভাষ্য, গাড়ীর গতিই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ।
জানা গেছে, ঈদ ও নিজের জন্মদিন উদযাপনের লক্ষ্যে টলমার জলপ্রপাত যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন মুন্না ও তার সহযাত্রীরা। তবে এই দুর্ঘটনায় প্রায় সবাই অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাংলাদেশি তরুণ ইরফান

মুন্না ও তার ফিলিপিনো বান্ধবী রিসা ক্যারামায়।
বছর দুয়েক আগে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রকৌশল বিভাগে পড়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে আসা ইরফান মুন্না। ২৫ জুন রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাশাপাশি মুন্নার জন্মদিনও ছিল। সে উপলক্ষেই গাড়ি নিয়ে টলমার জলপ্রপাত ঘুরে দেখতে যান মুন্না ও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৮ শিক্ষার্থী। বিকেল চারটা নাগাদ লিচফিল্ড ন্যাশনাল পার্ক অতিক্রম করার এক পর্যায়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রাথমিকভাবে পেছনের সিটে থাকা সহযাত্রীরা গাড়ি থেকে বের হতে পারলেও সিটবেল্টের সমস্যায় ভেতরে আটকে যান মুন্না ও তার পাশে বসা রিসা। শেষপর্যন্ত মুন্না আর রিসা বের হতেই পারেননি। এর মধ্যেই, গাড়ির ইঞ্জিনের তাপে আশপাশের শুকনো ঝোপঝাড়ে আগুন লেগে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে মুন্নাদের গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। বন্ধুরা মুন্নাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন তাদের সকল চেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দেয়। ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন মুন্না ও তার ফিলিপিনো বান্ধবী রিসা।
জানা গেছে, মুন্নার অন্য বন্ধুরা আরও দুটি গাড়িতে তাদের পিছু পিছুই আসছিলেন। সেই গাড়ি দুটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। যদিও এক্ষেত্রে এই দুই গাড়ির যাত্রীরা অল্প আহত হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ঘটনাস্থলে টেলিফোন নেটওয়ার্ক না থাকায় উদ্ধার প্রক্রিয়া কষ্টসাধ্য ও বিলম্বিত হয়েছে। পরে আহতদের ২ জনকে অ্যাম্বুুলেন্স হেলিকপ্টারে করে ডারউইন রয়্যাল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অস্ট্রেলিয়ায় শুকনো ঝোপঝাড়ের এই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।
সর্বশেষ জানা গেছে, এই দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। প্রাথমিক তদন্তে গাড়ির অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছেন নর্দান টেরিটরির রোড পুলিশিং ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাট পার্শন্স। তার মতে, এই দুর্ঘটনার আগে ৮০ কিলোমিটার গতির রাস্তায় আরও ৩০ কিলোমিটার বেশি গতিতে চলছিল গাড়িটি। নর্দান টেরিটরির উল্লেখযোগ্য সংবাদমাধ্যম এনটিনিউজ.কম.এইউ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সংবাদ শিরোনাম করেছে, ‘গাড়ির গতিই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ’।

তথ্যসূত্র: এনটিনিউজ.কম.এইউ, নিউজ.কম.এইউ

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.