বিরল রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য

382

‘বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা’ বলতে সচরাচর যে করুণ চিত্র ফুটে ওঠে তার বিপরীতে সাম্প্রতিক কিছু সাফল্য এ দেশের চিকিৎসকদের সম্মান এনে দিয়েছে। ‘বৃক্ষ মানব’ আবুল বাজনদারের বিরল রোগের চিকিৎসা দিয়েই আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা। সর্বশেষ উদাহরণ মুক্তামণি। এমন বিরল রোগের চিকিৎসা করতে ঝুঁকি নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। সফলও হয়েছেন তাঁরা। জটিল ও দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তামণির হাতে থাকা টিউমার অপসারণ করেছেন তারা। শিশুটি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে আরও কয়েকটি অপারেশন লাগবে।
বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাতে পায়ে গাছের মতো শেকড় গজিয়ে যাওয়া আবুল বাজনদারকে প্রায় সুস্থ করে তুলেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। জোড়া লাগানো দুই বোন তোফা-তহুরাকেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। ক্যাথেটার দিয়ে একটি কনডম প্রসূতির জরায়ুর ভেতর ঢুকিয়ে তা বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার পদ্ধতিটির আবিষ্কারকও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক।
যে পদ্ধতি বর্তমানে উন্নত বিশে^র দেশগুলোতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই পদ্ধতির আবিষ্কারক গাইনির চিকিৎসক সায়েবা আক্তারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন থেকে ১৪ বছর আগে তিনি এ পদ্ধতিটি আবিস্কার করেছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই মুক্তামণি হাতের সমস্যায় ভুগছে। বিশাল আকৃতির হাত নিয়েই চলাফেরা করেছে শিশুটি। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে চিকিৎসার উদ্যোগ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা। মুক্তামণির ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সফলতা ছিল তার রোগ নির্ণয় করা। পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন মুক্তামণির হাতের রক্তনালীতে টিউমার রয়েছে। যা বাংলাদেশের অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে তার রোগ সম্পর্কে মতামত নেওয়া হলেও তারা এ থেকে আরোগ্য হওয়া সম্ভব নয় বলেই মতামত দিয়েছিল। এক পর্যায়ে মুক্তামণির হাত কেটে ফেলা হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা হাত না কেটে শেষপর্যন্ত সফলভাবেই টিউমার অপসারণ করেন। মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্বভার নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘পাইগোপেগাস’ নামের বিরল রোগে আক্রান্ত জোড়া লাগা যমজ শিশু তোফা ও তহুরা সুস্থ আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘পাইগোপেগাস’ শিশু আলাদা করার ঘটনা ছিল এটাই প্রথম। এই দুজনকে পৃথক করার আগে বিশে^র সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো আলোচিত ছিল আবুল বাজনদার বৃক্ষমানবের চিকিৎসার বিষয়টি। ‘এপিডারমোডাই- সপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস’ নামের বিরল রোগে আক্রান্ত খুলনার পাইকগাছার আবুলের হাতে ও পায়ে শেকড়ের মতো অংশগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। আবুল এখন প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতই জীবন যাপনের অপেক্ষায় এখন তিনি।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.