বাংলাদেশের আস্থা ‘পরিণত’ তামিম

324

২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপের পর থেকে বদলে যাওয়া এক তামিম ইকবালকেই যেন দেখছে ক্রিকেটবিশ্ব। এই সময়ের মধ্যে ২৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৫টি শতকসহ তার ব্যাট থেকে এসেছে এক হাজার ৪৮৩ রান; ব্যাটিং গড় ৫৯.৩২। বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার।

অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালে মানুষের অর্জন সমৃদ্ধ হয়- এই আপ্তবাক্যের প্রমাণ মিলছে তামিম ইকবালের সাম্প্রতিক ব্যাটিংয়ে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশে এখন তার বিকল্প পাওয়াই দুষ্কর। একটা সময় তাকে ‘রগচটা তরুণ’ হিসেবেই চিনতো ক্রিকেট প্রেমীরা। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নেমে দ্রুত কিছু রান তুলে সাজঘরের দিকে হাঁটতেন তিনি। ফলে শুরুর দিকে স্কোরবোর্ডে কিছু রান যোগ হলেও ব্যক্তিগত অর্জন বলতে তেমন কিছুই ছিল না তামিমের। সেই ‘রগচটা’ তামিম যেন হঠাৎ করেই আমূল বদলে গেলেন ২০১৫ সালে। শুরুর মার মার ভঙ্গিতে খেলার পরিবর্তে সময় নিয়ে রান তোলার দিকে নজর দিলেন তিনি। তামিম এবং দলের জন্য ফলটা আশ্চর্যজনকভাবেই ইতিবাচক হলো। তামিম দীর্ঘ সময় টিকে থাকায় ব্যক্তিগত বড় স্কোর করার পাশাপাশি দলের জন্য বড় সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে শুরু করেন তিনি।

২০১৫ সালের শুরু থেকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত ১০টি ওডিআই ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ছিল ২৮৯ রান। বিশ্বকাপের পর ২০১৫ সালের শেষার্ধ্বের ৮টি ওডিআইতে তামিমের ব্যাট থেকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল ৪৫৩ রান; যা ওই বছরে প্রথম ১০ ম্যাচে করা রানের  দেড়গুণ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পরবর্তী ৮ ম্যাচের মধ্যে ২টি শতক করেছেন এই ড্যাশিং ওপেনার।

২০১৬ সালে মোট ৯টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। এই সময়ে ১টি শতকসহ মোট ৪০৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে; গড় ৪৫.২২। ২০১৬ সালে একটি শতক এবং দুইটি অর্ধশত রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম। দুই বছরে ব্যাটিংয়ে উন্নতির পুরস্কার হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সনদও পেয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত ১১টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে ২টি শতক এবং ৪টি অর্ধশতকসহ মোট ৬২৩ রান করেছেন তিনি; গড় ৬৯.২২। স্ট্রাইক রেট ৮২.৮৪।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে বাংলাদেশের ২টি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যথাক্রমে ১২৮ রান এবং ৯৫ রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে সেøজিংয়ের পরও ঠা-া মাথায় ব্যাট করতে দেখা গেছে তাকে। এই ‘পরিণত’ তামিমই বর্তমানে দেশসেরা ব্যাটসম্যান। শুধু  দেশসেরা বললে ভুল হবে; ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে এখনো পর্যন্ত আইসিসির সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকাতেও রয়েছেন তিনি। তামিম আছেন এই তালিকায় ৩ নম্বরে।

বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকা শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। এই সময়ের মধ্যে ৩৪টি ওডিআইতে ব্যাট হাতে এক হাজার ৯৭৮ রান করেছেন তিনি। আর এক হাজার ৭০৯ রান নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। এই সময়ের মধ্যে ৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান সত্যিই আশ্চর্যজনক। এই সময়ের ২৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতে জয়; একটিতে ড্র এবং ১০টিতে পরাজিত হয়েছে টিম টাইগার। আর এসব ম্যাচে সত্যিই এক অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তামিম ইকবাল। ওই ২৬টি ম্যাচের মধ্যে ২৫ ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন তিনি। এর মধ্যে ৪টি শতক করেছেন এই বাহাতি ব্যাটসম্যান। এখনো পর্যন্ত ১৭১ ম্যাচের ১৭১ ইনিংসে ব্যাট হাতে ৮টি শতকসহ পাঁচ হাজার ৭৪৩ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে বিশ্বকাপ পরবর্তী ২৬ ইনিংসেই তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৪টি শতক। বিশ্বকাপের পর খেলা ম্যাচগুলোতে ৪টি ওডিআই শতক এসেছে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটারদের ব্যাট থেকে।

২০১৭ সালে ওডিআইতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকার শীর্ষে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু  প্লেসিস; ১৬ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৮১৪ রান। ১৪ ম্যাচে ৭৮৫ রান নিয়ে এই তালিকার ২ নম্বরে আছেন ইংল্যান্ডের জো রুট। ১৫ ম্যাচে ৭৫২ রান নিয়ে ৩ নম্বরে আছেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। এদের তুলনায় কম ম্যাচ খেলেও ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকার ৮ নম্বরে আছেন তামিম ইকবাল; ১১ ম্যাচে ৬২৩ রান এসেছে তার ব্যাট  থেকে।

চলতি বছরে পাঁচশরও  বেশি রান করেছেন এমন খেলোয়াড়দের গড় রানের তালিকায় ৩ নম্বরে আছেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার। ২০১৭ সালে এখনো পর্যন্ত তার ব্যাটিং গড় ৬৯.২২। একই সময়ের মধ্যে ৮৫.৮৭ ব্যাটিং গড় নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট  কোহলি। ১৩ ম্যাচে ৬৮৭ রান নিয়ে এই সময়ের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় ৪ নম্বরে আছেন তিনি। আর সর্বোচ্চ গড় রানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের জো রুট।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.