জাতিসংঘের অভিযোগ বেহাল অবস্থায় হাজারো শরণার্থী

333

কয়েক বছর ধরেই শরণার্থী পুনর্বাসনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। তবে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আশ^াস ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন ইউএনএইচসিআর এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের এসব অভিযোগের বিপক্ষেই মত দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া সরকারের মুখপাত্ররা।
বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, হাজার হাজার শরণার্থীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেখেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আশ^াস দেওয়ার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রায় দুই হাজার শরণার্থীর কোনো ব্যবস্থাই করেনি অস্ট্রেলিয়া।

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকেই মানসিক ও দৈহিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আশ্রয়হীন এইসব শরণার্থীরা আর কখনোই অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে পারবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার- এমনটাই দাবি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের।
এ প্রসঙ্গে ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, উপকূলীয় আটককেন্দ্র থেকে অসুস্থ শরণার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া।
পাশাপাশি গ্র্যান্ডি আরও জানান, সাধারণ শরণার্থী ছাড়াও যাদের নিকটাত্মীয়রা এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন- এমন শরণার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সরকারের। কিন্তু, এসব শরণার্থীকেও অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। এছাড়া নাউরু এবং মানুস দ্বীপে শরণার্থীদের পুনর্বাসন করাও বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
জাতিসংঘের এসব অভিযোগের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকারের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতির অস্তিত্ব নেই।
এদিকে, ইউএনএইচসিআর ক্যানবেরা মিশনের ক্যাথেরিন স্টুবারফিল্ড জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ গত কয়েকমাসের আলোচনাগুলিতে স্পষ্ট করেছে যে, সরকার শরণার্থীদের বিষয়ে খতিয়ে দেখবে। এর ফলে নিকটাত্মীয়ের ভিত্তিতে কেউ কেউ অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে তিনি জানান, এক্ষেত্রে অনেক শরণার্থীরই অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী নিকটাত্মীয়ের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না। আর এর কারণে দেরি হচ্ছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শরণার্থী পুনর্বাসনের যে চুক্তি হয়েছিল সেটি তারা আর মানতে চাচ্ছে না। পাশাপাশি তাদের অভিযোগের কারণে কিছুটা বিব্রত ও চাপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
প্রসঙ্গত, সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদের অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখ-ে ঢুকতে না দিয়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু এবং পাপুয়া নিউগিনির মানুস দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসব দ্বীপে দীর্ঘ এক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হয় অসহায় হাজারো শরণার্থী।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.